দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সুন্দর দেশ থাইল্যান্ড। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে ঘুরতে যান। ২০২৬ সালে দেশটির ভিসা নিয়মে বেশ কিছু ডিজিটাল পরিবর্তন এসেছে। এখন ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে।
আপনি এই বছর ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা জরুরি। বর্তমানে সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে অনেকের আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক। আপনার সুবিধার জন্য থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।
থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা আবেদন করার নিয়ম
২০২৬ সালে থাইল্যান্ড সরকার তাদের ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন ভিত্তিক বা ই-ভিসা করেছে। কেন্দ্রীয় ই-ভিসা পোর্টাল (thaievisa.go.th) ব্যবহার করে এখন ঘরে বসেই ফরম পূরণ করা যায়। তবে বাংলাদেশিদের জন্য অনলাইনে আবেদনের পর পাসপোর্ট ও নথিপত্র নির্দিষ্ট এজেন্সির কাছে জমা দিতে হয়।
আবেদনের সঠিক ধাপগুলো:
১. প্রথমে থাইল্যান্ডের অফিশিয়াল ই-ভিসা ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
২. নির্ভুলভাবে অনলাইন আবেদন ফরমটি পূরণ করুন। আবেদনের সময় অফিসের স্থান হিসেবে ঢাকার রয়্যাল থাই এম্বাসি সিলেক্ট করুন।
৩. আপনার সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি পোর্টালে আপলোড করুন।
৪. অনলাইন বা সরাসরি ভিসা ফি প্রদান করুন।
৫. এরপর অনলাইন থেকে ফর্মটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন। প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রসহ ফর্মটি ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global) সেন্টারে জমা দিন।
আরো পড়ুন: সুইজারল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা আবেদন করার নিয়ম 2026

থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা করতে কি কি লাগে?
ভিসা পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো সঠিক এবং বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়া। একটি কাগজের ঘাটতি থাকলে ভিসা বাতিল হতে পারে। আপনার আবেদনের সাথে যে নথিপত্রগুলো জমা দিতে হবে, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
-
পাসপোর্ট: মূল পাসপোর্ট যার মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে এবং কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে। আগের কোনো পাসপোর্ট থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে।
-
ছবি: সাম্প্রতিক সময়ে তোলা ২ কপি ছবি। ছবির সাইজ হতে হবে ৩.৫ সেমি x ৪.৫ সেমি, ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা এবং ম্যাট ফিনিশ কাগজের হতে হবে।
-
ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি: বিগত ৬ মাসের আসল ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট লাগবে। ব্যাংকে সিল ও স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।
-
পেশাগত প্রমাণপত্র: চাকুরিজীবীদের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) এবং পে-স্লিপ লাগবে। ব্যবসায়ীদের জন্য আপডেট ট্রেড লাইসেন্স লাগবে, যা ইংরেজিতে অনুবাদ ও নোটারি করা হতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বা আইডিয়াল লেটার প্রয়োজন।
-
ভ্রমণ পরিকল্পনা: কনফার্ম করা বিমান টিকিট এবং হোটেল বুকিংয়ের কপি।
আরো পড়ুন: ইন্ডিয়ান টুরিস্ট ভিসা খরচ এবং আবেদন করার নিয়ম 2026
আর্থিক সক্ষমতার নিয়ম ২০২৬:
ব্যাংক ব্যালেন্সের ক্ষেত্রে থাই দূতাবাস এখন অনেক বেশি কড়াকড়ি নিয়ম মেনে চলে। একজন একক আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা থাকতে হবে।
পরিবারের সাথে আবেদন করলে অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১,২০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা ব্যালেন্স থাকা উচিত। অ্যাকাউন্টে হঠাৎ করে বড় কোনো টাকা জমা করবেন না, কারণ এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
থাইল্যান্ড ভিসা চেক অনলাইন বাংলাদেশ
আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার ভিসার বর্তমান অবস্থা অনলাইনেই যাচাই করা সম্ভব। ভিএফএস গ্লোবাল অথবা থাই ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে এই ট্র্যাকিং করা যায়।
-
ভিসা চেক করার জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
-
আপনার আবেদনের রসিদে থাকা রেফারেন্স নম্বর অথবা পাসপোর্ট নম্বরটি লিখুন।
-
আপনার জন্মতারিখ প্রদান করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
-
ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার পাসপোর্টটি এখন কোন অবস্থায় আছে তা স্ক্রিনে দেখতে পাবেন।
থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা কবে চালু হবে
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা বর্তমানে সম্পূর্ণ চালু রয়েছে। নতুন কোনো বন্ধের ঘোষণা নেই। আপনি যেকোনো কর্মদিবসে এজেন্সির মাধ্যমে বা সরাসরি ভিএফএস সেন্টারে আপনার ফাইল জমা দিতে পারেন।
তবে দুই দেশের সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ভিসা সেন্টার বন্ধ থাকে। তাই ভ্রমণের তারিখ ঠিক করার অন্তত এক মাস আগে আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আরো পড়ুন: মালদ্বীপ টুরিস্ট ভিসা খরচ কত? আবেদন করার নিয়ম 2026
থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা খরচ
ভিসা প্রসেসিংয়ের খরচ মূলত সরকারি ফি এবং এজেন্ট বা সেন্টারের সার্ভিস চার্জের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালের বর্তমান আপডেট অনুযায়ী খরচের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
| খরচের খাত | আনুমানিক টাকার পরিমাণ (টাকায়) |
| সরকারি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা ফি | ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা |
| ভিএফএস বা প্রসেসিং এজেন্সি চার্জ | ১,৫00 থেকে ৩,০০০ টাকা |
| সর্বমোট আনুমানিক খরচ | ৫,৫০০ থেকে ৭,০০০ টাকা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো কারণে ভিসা রিজেক্ট বা বাতিল হলে এই ফির টাকা আর ফেরত পাওয়া যায় না। তাই সাবধানে ফরম পূরণ করতে হবে.
থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ
ভিসা ইস্যু হওয়ার দিন থেকে এর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ থাকে ৩ মাস বা ৯০ দিন। অর্থাৎ, ভিসা পাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে আপনাকে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে হবে।
তবে আপনি সেখানে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। যদি আরও বেশি দিন থাকার প্রয়োজন হয়, তবে থাইল্যান্ডের ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত ৩০ দিনের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যায়।
থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা পেতে কতদিন লাগে
সাধারণত থাই দূতাবাস ফাইল জমা নেওয়ার পর ৭ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ভিসা প্রদান করে। তবে ঈদের ছুটি বা নতুন বছরের ছুটির মতো পিক সিজনে পর্যটকদের অনেক চাপ থাকে।
আরো পড়ুন: নেপাল টুরিস্ট ভিসা আবেদন ও সকল আপডেট 2026
ওই সময়ে ভিসা প্রসেস হতে ১০ থেকে ১৫ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তাই আপনার ভ্রমণের সব পরিকল্পনা এবং বিমানের টিকিট বুকিং করার আগে এই সময়ের হিসাব মাথায় রাখা জরুরি।
থাইল্যান্ড ভ্রমণের প্রথম এবং প্রধান ধাপ হলো সঠিক নিয়মে ভিসা পাওয়া। আপনার সব তথ্য ও পেশাগত প্রমাণপত্র যদি শতভাগ সত্যি হয়, তবে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কোনো দালালের খপ্পরে পড়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করবেন না।
এতে আপনার পাসপোর্ট স্থায়ীভাবে কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে। এই গাইডের নির্দেশনা মেনে আজই আপনার সুন্দর ভ্রমণের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে দিন। আপনার থাইল্যান্ড ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও নিরাপদ হোক।